দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে গেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দিনব্যাপী সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজীর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পরশুরাম উপজেলার খোয়াইঘাট মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৭টি প্রবেশমুখ নির্মাণের কথাও রয়েছে।
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বাঁধের দুর্বলতা নিয়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি ও বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় জনজীবন ও কৃষিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পরশুরামে প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর তিনি ফুলগাজী উপজেলায় যাবেন। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতেও যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনের শেষ বড় কর্মসূচি হবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। বিকেল ৩টায় সেখানে প্রধানমন্ত্রী পারিবারিক কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেনী জেলায় প্রথম পর্যায়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসছেন। কৃষকদের কৃষি উপকরণ, সেচসহ বিভিন্ন সহায়তায় সহজ প্রবেশাধিকার দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। সফর শেষে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
