দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারী ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রক্রিয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। জামায়াত দাবি করেছে, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বিএনপি। দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পর হ্যাকের দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য।
সোমবার খুলনায় নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ হতে পারে না। তিনি বলেন, ইতিহাসে এমন শক্তির ভূমিকা আমরা আগেও দেখেছি। একই দিনে কক্সবাজারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নারীদের অবমাননাকে গণতান্ত্রিক ও সমতার রাষ্ট্র গঠনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রচারণায় নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কক্সবাজারের সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজ নারীদের প্রকৃত সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘর, চলাচল ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নারী ইস্যুর পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘন, সহিংসতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়েও দুই দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই উত্তেজনা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলছে। শেষ পর্যন্ত এসব বিতর্ক ভোটারদের সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তার উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
