লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কুমিল্লায় নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, এক সন্দেহভাজন যুবক আটক

প্রকাশিত: 19 সেপ্টেম্বর 2026

25 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার দুপুরের দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ড. নাহিদা বেগমকে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে তার মায়ের মুঠোফোন নিয়ে বের হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।

সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অপ্রতীমের মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের ছবি ও নিখোঁজের তথ্য প্রকাশ করে সন্ধান পেতে সহায়তা চান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেন।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি জঙ্গল এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি অপ্রতীমের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা দামি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রাথমিকভাবে মুঠোফোনকে কেন্দ্র করে হত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার সময়কার গতিবিধি, মুঠোফোনের অবস্থান এবং তার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom