দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাকশাল’ নাম দেওয়া একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার রাখা হয়। অন্যদের জন্য ছিল ভিন্ন খাবার। নিবন্ধনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নেওয়া হয়।

তবে আয়োজনটি শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে প্রচার হলেও পরে আম্মার জানান, এটি ছাত্র সংসদের আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়। তাঁর দাবি, গরুটি একজন ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন এবং আয়োজনে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত নয়।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আম্মার এই ভোজের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে জানিয়ে সেটি জবাই করে জুলাই জিয়াফত আয়োজনের কথা বলেন। পরে গরু জবাইয়ের একটি ছবি ও বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ছাত্র সংসদ ভবন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। ছাত্র সংসদ ভবনের সামনে রান্নার আয়োজন করা হয়। পরে খাবার প্যাকেট করে ভ্যানে করে কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন।
আয়োজনস্থলে টাঙানো ব্যানারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ উপলক্ষে ‘জুলাইয়ের জিয়াফত’ আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়। ব্যানারে ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানও ছিল।
তবে আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, খাবারের মান, ইন্টারনেট সেবা ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য মৌলিক সমস্যা সমাধানে ছাত্র সংসদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চলতি বছর দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। তবে আম্মারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই ভোজের রাজনৈতিক প্রতীক ও আয়োজনের ধরন নিয়ে আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ১৫ আগস্টকে ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বিবেচনা করেই গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছাত্র সংসদের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়।
