দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টিতে চলতি বোরো মৌসুমে দেশের হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, এই ক্ষতির প্রভাবে দেশে দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি চালের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। ফলে এই মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতি সরাসরি বাজার, কৃষক ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওর অঞ্চল। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৪০ হাজার থেকে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঠিক বোরো কাটার মৌসুমেই এমন বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে।

মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অবস্থা আরও সংকটজনক। অনেকেই ধান কাটার আগেই ফসল হারিয়েছেন। আবার যেসব ধান কাটা হয়েছে, সেগুলো পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় শুকানো সম্ভব হয়নি। এতে ধানের মান নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাজারে অনেক কৃষক প্রতি মণ ধান মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাওরের বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকাও ক্ষতির বাইরে নেই। দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা ও নবীনগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধান, ভুট্টা, আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নগদ সহায়তা, বীজ ও সার বিতরণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ বাড়িয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদে দ্রুত পাকে এমন বোরো জাত সম্প্রসারণ, আধুনিক হারভেস্টার সরবরাহ, হাওরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি বীমা চালুর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা ও অভিযোজনভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ফসলহানির প্রভাব শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চালের বাজারে অস্থিরতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সংকট এবং নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
