দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়কবাতি ব্যবস্থা কার্যকর করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে কর নির্ধারণ ও আদায় প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে একটি সমন্বিত নাগরিক বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কর মূল্যায়ন ও সংগ্রহ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দায়িত্বশীলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অপ্রয়োজনে অন্যের ওপর কাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
এই মশকনিধন কর্মকান্ড দৃশ্যমান হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর বিভিন্ন এলাকায়। বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে দেশ জুড়েই ডেঙ্গু এবং চিকনগুনিয়া বেশ আশঙ্কাজনক ভাবে মহামারী আকার ধারণ করে এবং প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক। এই প্রাণঘাতী রোগটি মশা বাহিত।
বিশেষ অভিযানে প্রায় দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী অংশ নেন। অভিযানের সময় এলাকার ড্রেন ও ফুটপাত থেকে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হয় এবং মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কীটনাশক ছিটানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে একটি সচেতনতামূলক র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং নগরের সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে রাজধানীজুড়ে মাসব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে একই ধরনের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফল পেতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনায় ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
