দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে এক ১৪ বছরের ফিলিস্তিনি ছেলে প্রতিবন্ধী সত্ত্বেও শারীরিক, যৌন ও মানসিক নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের আরেকটি কালো অধ্যায় তুলে ধরে।
হিব্রু সংবাদপত্র হারেটজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাফার বাসিন্দা এই ছেলেটিকে ৩১ অক্টোবর পশ্চিম তীরের রামাল্লায় আত্মীয়ের বাড়িতে সকাল ৪টার দিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আক্রমণ করে গ্রেফতার করে।
ছেলের মা বর্ণনা করেছেন, দখলদার সৈন্য দল ঘরে ঢুকে শিশুদের ঘরে রাইফেল ও লাইট তাক করে ভয় দেখিয়েছে। তাদের ছেলে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়াতে পারেনি। শিশুটির পরিবার জোরালো দাবি করেছিল যে শিশুটি প্রতিবন্ধী, তা সত্ত্বেও, ইসরায়েলি পুলিশ তাকে হামাস ও আইএসআইএসের সাথে যোগাযোগ আছে দাবি করে আটক করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসরায়েলি স্থাপনার ছবি তুলে সে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছে এবং বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা সহ গুরুতর নিরাপত্তা অপরাধের সাথে সে জড়িত।
হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেটরা এই অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত এবং তার মানসিক অবস্থার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।
হারেটজের প্রতিবেদনে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ উঠে এসেছে যে, ছেলেটি বারবার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে যে বড় সেলমেটরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে এবং কিছু করতে বাধ্য করছে। কিন্তু তেল আভিভের বাত য়ামের জুভেনাইল কোর্টের বিচারক তাল লেভিতাস বেন পারেটজ তার সেল পরিবর্তন বা সুরক্ষার নির্দেশ দেননি।
ফলে একটি স্পষ্ট যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, যার পরে আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত শুরু হয়। এরপর ছেলেটিকে একাকী রাখার জন্য স্থানান্তর করা হয়, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর স্থানান্তর করা হয়েছে। তার আইনজীবী ইগাল ডোতান বলেছেন, ছেলেটির অবস্থা খারাপ হয়েছে, সে অনাহার, ঠান্ডা এবং সেলমেটদের নির্যাতনের শিকার।
এই ঘটনা শুধু একটি শিশুর যন্ত্রণা নয়, বরং ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার নির্মমতা প্রকাশ করে, যেখানে অক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করা হয়।
এটি জাতিসংঘের শিশুর অধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতনের একটি উদাহরণ। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি শিশুরা প্রায়ই শারীরিক, যৌন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, এই ক্ষতি তাদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।
বর্তমানে ইসরায়েলে ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করে রেখেছে, যার মধ্যে শিশু ও নারীরা অনাহার, চিকিৎসা অভাবে ভুগছে।
এই ঘটনা বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দরকার। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে, এমন আটকাদেশ বাতিল এবং নির্যাতনকারীদের বিচার করা উচিত।
সূত্র: Haaretz , Al Jazeera , Anadolu Agency, Middle East Monitor
