দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ABC News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপে যেতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। বরং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক অভিযান শেষের ঘোষণা মূলত কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল, যা সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন মাত্রা পায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অভিযানের আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-তে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
তবে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এখন উভয় পক্ষই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পর কূটনৈতিক পথে ফেরার এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। তবে আলোচনার অগ্রগতি এবং পারস্পরিক আস্থার ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
