লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে ফারুকীর প্রশ্ন, সরকারের ভেতরে কারা আওয়ামী লীগের প্রভাব নীরবে বাড়াচ্ছে

প্রকাশিত: 08 সেপ্টেম্বর 2026

33 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় সরকারের ভেতরে থেকে আওয়ামী লীগের কথিত ‘সফট পাওয়ার’কে কারা জায়গা দিচ্ছে এবং কারা তাদের ক্ষমতায়ন করছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

মঙ্গলবার সকালে নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এ আহ্বান জানান। একই পোস্টে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন ফারুকী।

ফারুকীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিছু ব্যক্তি এখনো দেশে ও বিদেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের ভেতরে থাকা কারা এমন ব্যক্তিদের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ও তার আগে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার জন্য দায়ীদের পুনর্বাসনের পক্ষে যারা জনপরিসরে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহি প্রয়োজন। তার মতে, গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের সুযোগ তৈরি করা এবং আওয়ামী লীগ ও অন্য রাজনৈতিক পক্ষকে একই রাজনৈতিক মানদণ্ডে দেখানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ফারুকী বলেন, আওয়ামী লীগের কথিত ‘সফট পাওয়ার’কে জায়গা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটি সরকারের নীতিনির্ধারকদের খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি সরকারের ভেতরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

তার অভিযোগের আরেকটি অংশ হলো, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ ও সিআরআইয়ের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ফলে তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ২০২৫ সালের মে মাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলটির কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয় এবং দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার কথা বলা হয়েছিল।

ফারুকী তার পোস্টে জুলাই আন্দোলনকে সাধারণ রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ওই সময়ের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে দায় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার মতে, যারা রাজনৈতিক সহিংসতা বা দমনমূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। তবে তিনি কোনো কমিশন বা বিচারিক প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত প্রস্তাব দেননি।

ফারুকীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা। সোমবার রাতে ভেনিসের মেস্ট্রে এলাকায় ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানকালে একদল বাংলাদেশি তার সঙ্গে হেনস্তামূলক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার দিকে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয়, তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং তার মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটির পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে বিস্তারিত জানান এবং স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করার কথা জানান।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও কয়েকজনকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তার সঙ্গে উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অপরাধের দায় নিয়ে ইতালীয় কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার সময় বাঁধন ইতালিতে ছিলেন তার অভিনীত রুবাইয়াত হোসেনের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রদর্শনীতে অংশ নিতে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সরকারি সূচি অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এবং ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর একাধিক প্রদর্শনী হয়েছে। বাঁধন চলচ্চিত্রটির অন্যতম অভিনয়শিল্পী।

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ফারুকী তাকে মনোবল না হারানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক কর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং দেশের ভেতরে তাদের বক্তব্য ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ—দুই বিষয়কেই আলাদাভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন।

ফারুকীর বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিচয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের পারস্পরিক রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন ইতালীয় তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom