দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত অর্থায়নকারী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বড় বড় ব্যাংক ও প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটদের কথিত যোগসাজশ খতিয়ে দেখতে মার্কিন বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
১৫ নভেম্বর শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ঘোষণা করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ক্লিনটন, জেপি মর্গ্যান চেজ, সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্স ও লিংকডইন প্রতিষ্ঠাতা রেইড হফম্যানের সম্পর্ক তদন্ত করা হবে। এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক এসইসি চেয়ারম্যান জে ক্লেটন।
মার্কিন কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইনের হাজারো ইমেইল প্রকাশের কয়েকদিন পরই ট্রাম্পের এই অনুরোধ আসে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইমেইলে ট্রাম্পের নামও বহুবার এসেছে। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, “এপস্টেইন ডেমোক্র্যাট ছিলেন, এটা ডেমোক্র্যাটদের সমস্যা। আমার একটা দেশ চালাতে হবে।” তিনি ট্রুথ সোশালে লেখেন, “ক্লিনটন ও অন্যরা এপস্টেইনের সঙ্গে কী করেছে, তা জানা দরকার।”
বন্ডি বলেন, “আমরা গুরুত্ব ও সততার সঙ্গে এই কাজ করব।” ক্লিনটন এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে জানতেন বলে অস্বীকার করেছেন। জেপি মর্গ্যান বলেছে, তারা এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগ রাখায় দুঃখিত, কিন্তু অপরাধে সহায়তা করেনি। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, নিজের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের প্রশ্ন থেকে মনোযোগ সরাতে ট্রাম্প এই তদন্ত চান।
এই তদন্ত এপস্টেইন-কেলেঙ্কারির নতুন অধ্যায়। ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের ‘আত্মহত্যা’র পর তার নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্ত যদি স্বচ্ছ হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হলে এটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ২০২৬ মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের চাপে রাখার কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: BBC, Reuters, The Wall Street Journal
