লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চড়া মাছের বাজার, বেড়েছে চিনির দাম

প্রকাশিত: 02 জানুয়ারী 2026

24 Views

The Civilians News

সামনে রমজান মাস। সাধনার মাসটি আসার আগেই বেড়েছে চিনির দাম। বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫-১০০ টাকা। এদিকে, নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। নতুন আলু ও পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় কমেছে পণ্য দুটির দাম।

প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫-৭০ টাকা। ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। প্রতি কেজি নতুন আলু মিলছে ১৫-২০ টাকায়।

সরবরাহ বাড়ায় শীতকালীন সবজির দাম কমেছে। কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অনেক সবজি। বাজার ও মানভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি কেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। বেগুনের দর নেমেছে ৪০-৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহের মতো মাঝারি আকারের ফুল ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। শালগম ও পেঁপে কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রোকলি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমের বাইরে থাকা কিছু সবজির দাম ৭০-৮০ টাকা। পটল, করলা ও ঢেঁড়স এই দামে মিলছে। একই দামে মিলছে টমেটো।

মিরপুর-১১ তে বাজারে আসা স্কুলশিক্ষিকা মুন্নি আক্তার বলেন, ‘শীতকালে অল্প টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যায়। শীতের সবজি খেতেও অনেক সুস্বাদু। টমেটো ছাড়া সব সবজিরই দাম কম।’

বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’

সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকারে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘শীতে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়তে দাম বাড়তি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।’

রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, ‘মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।’

বনশ্রী বাজারের ক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, ‘মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman