দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। প্রয়োজনে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও জ্বালানি আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার সকালে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত উৎসের পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের নতুন পথ তৈরি করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো যাচাই করছে।
এর আগে আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, সেনেগাল ও অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। মার্চে সংসদে শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সরকার কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় চলছে।
সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এর আগে শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে রুশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিসর আরও বিস্তৃত করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে পাট ও পাটজাত পণ্যকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার এরই মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পণ্যের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
