দ্য সিভিলিয়ানস । আন্তর্জাতিক সংবাদ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ বা নিয়ন্ত্রণের পুনরায় চেষ্টার প্রতিবাদে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক তথা ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জনতার স্লোগান ছিল “গ্রীনল্যাণ্ড নট ফর সেল” অর্থাৎ “গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের জন্য নয়” এই স্লোগানে। ট্রাম্প শাসনতন্ত্র ও ফেসবুক/টুইটের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে জোরালো দাবির পরেই এসব বিক্ষোভের উত্থান ঘটে।
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌম রাজধানী নুকে বিক্ষোভে অন্তত ১,০০০-এর বেশি মানুষ অংশ নেন। তারা গ্রিনল্যান্ডিক পতাকা হাতে নিয়ে “Kalaallit Nunaat” (গ্রিনল্যান্ড) ভাষায় স্লোগান দেন। কিছু প্রচারপত্রে লেখা ছিল— “Greenland is ours” গ্রীনল্যাণ্ড আমাদের, “Stop threats and aggression” দখলের হুমকি বন্ধ করো, “Don’t take over our country” আমাদের দেশ ছিনিয়ে নিতে আসবে না, এবং সবচেয়ে বড় অক্ষরে “GREENLAND NOT FOR SALE”। গ্রীনল্যাণ্ড বিক্রির জন্য নয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, যার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সরকারের পালনকর্তা মিউট এগেদে ও পার্লামেন্টের অন্যান্য বড় দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে “গ্রহনযোগ্য নয়” বলে অভিহিত করেন এবং আবারও ঘোষণা করেন যে গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডিকদেরই সম্পত্তি।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে হাজার হাজার মানুষ সমর্থন মিছিল করে। সেখানে গ্রিনল্যান্ডিক ও ডেনিশ পতাকা উড়িয়ে তারা স্লোগান দেন— “Hands off Greenland” গ্রীনল্যাণ্ড থেকে হাত সরিয়ে নাও, “Greenland for Greenlanders” গ্রীনল্যাণ্ড শুধু গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য, “Not for sale” বিক্রির জন্য নয়।
এ বিক্ষোভ তখনই তীব্র আকার নেয় যখন ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড চুক্তির বিষয়ে “সমঝোতায়” না আসে তাহলে তিনি কিছু ন্যাটো/ইউরোপীয় দেশ যেমন: ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন ইত্যাদি ওপর ১০–২৫% নাগরিক পণ্য (ট্যারিফ) বসাতে পারেন। একই সময়ে ন্যাটো বাহিনীর কিছু টহল টহলদারি বাহিনীকে গ্রিনল্যান্ডে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ আছে, যাতে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও “সুরক্ষা” বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ জরিপগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডিক জনগণের প্রায় ৮৫% ঐক্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা ক্রয়/নিয়ন্ত্রণে দেওয়া সম্পর্কে বিপরীত মত পোষণ করে। তাঁরা এটিকে নিজস্ব নির্বাচনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন।
“GREENLAND NOT FOR SALE” স্লোগানটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রিনল্যান্ডিকদের শক্ত মনোবলের প্রতীক হয়ে ওঠে।
