দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মিরপুরের বেড়িবাঁধে গতকাল রাতে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে। তুরাগ নদীর তীরে একটি খালি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই শিক্ষিত যুবকের জীবন বিপন্ন হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুসারে, আব্দুল্লাহ সাইয়াফ (১৮), মিরপুর নেভাল একাডেমি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং রুদ্র মোহাম্মদ নাহিয়ান আমির সানি (১৮), একটি স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র, মিরপুর বেড়িবাঁধে বাসে অগ্নিসংযোগ করা কালে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে এর মধ্যে একজন সাইয়াফ নদীতে ঝাঁপ দেয় আর অন্যজনকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। তৃতীয় সন্দেহভাজন পালিয়ে যায়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাসে আগুন দেওয়ার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া করলে সাইয়াফ ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। সাঁতার না জানায় সে ছটফট করতে করতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নাহিয়ানকে মিরপুর থানায় আটক রাখা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না এই বিপর্যয়। সাইয়াফের বাবা হাউমাউ করে কাঁদছেন, অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং কী হয়েছে বুঝে উঠতে পারছেন না। তার বড় ভাই নির্বাক হয়ে বসে আছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই অরাজনৈতিক ছাত্রদের টাকার লোভ দেখিয়ে পলাতক আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ বাসে আগুন দেওয়ার জন্য ভাড়া করেছিল। কথা ছিল, টাকা দিয়ে তারা তিন বন্ধু মিলে পার্টি করবে।
এমনকি আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা মাদকাসক্ত টোকাইদের ককটেল বিস্ফোরণের জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা করে দিয়ে অরাজকতা ছড়াচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বেশ কয়েকজন।
বিদেশে বসে লুটের টাকা খরচ করে দেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারার এই রাজনীতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেক শহুরে নাগরিক ও নেটিজেনরা, তাদের মত হল, রাজনীতি করতে হলে আগুন সন্ত্রাস, বোমাবাজি, ভাঙচুর বাদ দিয়ে গঠনমূলক কাজ করে নিজেদেরকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হাসিনার পতিত সরকার এভাবে অরাজনৈতিক ছাত্রদের লক্ষ্য করে সমাজে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে এই জন্য যে, যেন আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত হয়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ১১ নভেম্বর মধ্যরাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে ঘুমন্ত চালক জুলহাস মিয়া (৩৫)-কে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
পুলিশ জানায়, তিন মুখোশধারী লোক বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালায়। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রোকনুজ্জামান বলেন, এটি আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসকারীদের কাজ। মামলায় ফুলবাড়িয়া মিউনিসিপ্যালিটির ওয়ার্ড নং ৬-এর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকার সহস্রাধিক মানুষকে খুন করেছে , কয়েক হাজার মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই দলটির সর্বোচ্চ নেতা ও নীতি নির্ধারকরা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা তো করেইনি এবং তারা অনুতপ্তও নয়। ঢাকায় গত কয়েকদিনে ২০টির বেশি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচির সাথে যুক্ত।
এই সন্ত্রাসের পেছনে হাসিনার নির্বাসিত নেতৃত্বের হাত রয়েছে বলে পুলিশ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভিযোগ করছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যাহত করতে দেশজুড়ে আগুন ও বিস্ফোরণ চালাচ্ছে।
গত ১০ দিনে ঢাকায় ১৯৫ জন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হাসিনা সরকারের পুরনো কৌশল, যুবকদের অরাজকতায় জড়িয়ে সমাজকে অস্থিতিশীল করা।
জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামীলীগের সকল কার্যক্রম এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশব্যাপী সন্ত্রাস তৈরির উস্কানি দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৭ নভেম্বর হাসিনার বিচারের রায় আসবে, যা এই অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এই রক্তের খেলা থামাতে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা দরকার, যাতেনিরীহ যুবকরা এমন লোভের ফাঁদে না পড়ে। সমাজকে সচেতন হতে হবে, এই অরাজকতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে।
