লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ডিবি হারুনকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা, ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপের প্রতিলিপি

প্রকাশিত: 12 অগাস্ট 2026

60 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে খাবার খাওয়ানো এবং সেই ছবি প্রকাশের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তৎকালীন গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত একটি ফোনালাপের প্রতিলিপিতে উঠে এসেছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ফোনালাপের প্রতিলিপিটি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে হারুন অর রশীদের কথোপকথনের অংশ রয়েছে। সেখানে হারুন নিজের পদে বহাল থাকার বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলে জানানো হয়।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ডিবি কার্যালয়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাবার খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিজের ছিল না বলে ওবায়দুল কাদেরকে জানান হারুন। তাঁর দাবি ছিল, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধানের নির্দেশেই খাবারের ব্যবস্থা এবং ছবি তোলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিচ্ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ার ছবি প্রকাশ করেন হারুন। ছবিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনকারীদের একটি অংশ অভিযোগ করে, আটক সমন্বয়কদের ওপর আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে আদালতও ঘটনাটির সমালোচনা করে। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই উচ্চ আদালত ডিবি কার্যালয়ে আটক ব্যক্তিদের খাবার টেবিলে বসিয়ে ছবি তোলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর দুই দিন পর ৩১ জুলাই হারুনকে ডিবি প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপির অপরাধ ও পরিচালনা বিভাগে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়।

তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, বদলির পেছনে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অসন্তোষও কাজ করেছিল। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ফোনালাপে হারুন ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিজের বদলি ঠেকানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ বর্তমানে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরছে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটকের সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে হারুনের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর সাক্ষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটকের দায়িত্ব হারুনের ওপর দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি সে সময়ও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন হারুন। তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকে। হারুন অর রশীদের ভূমিকা নিয়েও একাধিক মামলা ও অভিযোগ হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত নতুন ফোনালাপের প্রতিলিপি সেই সময়কার ক্ষমতার অভ্যন্তরের সিদ্ধান্ত ও টানাপোড়েনের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ফোনালাপের প্রতিলিপিতে উঠে আসা বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman