দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। ইরানের সরকারের দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসের স্থাপনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপে হামলার কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বা হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, এমন স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘাতের পরিসর মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরানের নিরাপত্তা ও সামরিক মহলে আলোচনা চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে আলোচনারও কোনো সময় নির্ধারিত হয়নি। এর আগে ইরানও জানিয়েছিল, সামরিক চাপের মধ্যে আত্মসমর্পণের মতো কোনো সমঝোতা তারা মেনে নেবে না।
সংঘাতের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অন্যান্য শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন, প্রণালিটি খোলা রয়েছে। বাস্তবে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছিল এবং পরদিন কোনো জাহাজ চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। গত কয়েক দিনে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার পর আবুধাবি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তেহরান অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পরিস্থিতির প্রভাব এরই মধ্যে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হয়ে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের মধ্যেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে। ট্রাম্প ওমানের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দেশটি ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার মেয়াদ ও পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফলে ইরান যদি ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় অথবা যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে বর্তমান সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর দ্রুত বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার ঝুঁকি তৈরি হলে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপে ইরানের হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
