দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক বাহিনী একটি শক্তিশালী হুঁশিয়ারি দিয়েছে: যদি কোনো সামরিক, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক হামলা ইরানের দূতাবাস বা কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে, তাহলে ইরান সমস্ত ইসরায়েলি দূতাবাসকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে ঘোষণা করেছে। এই হুঁশিয়ারি শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের খতম আল‑অনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি দিয়েছেন।
হুঁশিয়ারিতে বলা হয়েছে, “যদি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কোনো দূতাবাস, কূটনৈতিক কেন্দ্র বা প্রতিনিধিত্বের স্থাপনাকে কোনো আক্রমণ বা আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেই আগ্রাসণের প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের সব দূতাবাসকে ইরানের শক্তিশালী সেনাবাহিনী বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে।”
মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করতে গিয়ে ইরানি বক্তব্যে এটিও বলা হয়েছে যে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরানি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “আমরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখাবো।”
এই হুঁশিয়ারি এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত সপ্তাহে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এবং তা থেকে উত্তপ্ত অবস্থার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠিনভাবে জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান তার কূটনৈতিক স্থাপনা এবং প্রতিনিধিত্বের সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং প্রত্যেক দেশকে তাদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা করতে সতর্ক করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিবৃতি আন্তর্জাতিক মানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আইনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। রাজনৈতিক দূতাবাস ও বিদেশি প্রতিনিধিত্বের ওপর আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়, তাই ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।
