দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় অবস্থিত তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বৃহস্পতিবার বলেন, হামলার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্ষতি সীমিত ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি।
প্রত্যদর্শীরা জানান একটি বিকট বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে কালো ধোয়া কুন্ডুলি পাকিয়ে আকাশের দিকে উঠে যায়।
এদিকে ইরানের Iইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হাইফা ও দক্ষিণাঞ্চলের আশদোদ শহরের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনায় ‘নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ‘নাসরাল্লাহ’ নামক আপগ্রেডেড কাদর ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম দিয়ে প্রথমবার আক্রমন করেছে এবং তা সফল হওয়ার দাবী করেছে। আশদোদ শোধনাগার ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিরোধ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ হাইফায় পড়ে এবং সেটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ইলেকট্রিক কর্পোরেশন জানায়, শার্পনেলের আঘাতে একটি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তবে প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়।
ইসরায়েল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসেস জানায়, শোধনাগারের দুটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বায়ু মান পরীক্ষায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে একই শোধনাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হয় এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
