দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রায় ১০ হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন শিকারি প্রাণী ‘ডাইরেক্ট উলফ’কে ঘিরে নতুন বৈজ্ঞানিক দাবি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান কোলোসাল বায়োসায়েন্সেস (Colossal Biosciences) জানিয়েছে, জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা বিলুপ্ত এই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সফল হলে ডি এক্সটিংশন প্রযুক্তির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ফিরিয়ে আনার নতুন যুগ শুরু হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে সংগৃহীত ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ডাইরেক্ট উলফের গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর আধুনিক ক্যানিড প্রজাতির জিনোমে সেই বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন প্রজন্মের শাবক তৈরি করা হয়েছে, যাদের শারীরিক গঠন ও আচরণ বিলুপ্ত প্রাণীর সঙ্গে অনেকাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে একই গবেষণা দল উলি ম্যামথের বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে জিন পরিবর্তিত ‘উলি মাউস’ তৈরির পরীক্ষাও চালায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডি এক্সটিংশন প্রযুক্তি শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিলুপ্ত শিকারি প্রাণী ফিরিয়ে আনা গেলে নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যচক্র পুনরায় সক্রিয় হতে পারে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির উন্নয়ন ভবিষ্যতে বিরল জেনেটিক রোগের চিকিৎসা, জিন থেরাপি এবং সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
তবে গবেষণাটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনেক বিজ্ঞানী সতর্ক করে বলেছেন, পুনরুজ্জীবিত প্রাণী প্রকৃতির সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবে এবং এর পরিবেশগত প্রভাব কী হবে, তা নিশ্চিত না হয়ে ব্যাপক প্রয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নৈতিকতা, জীববৈচিত্র্য নিরাপত্তা এবং বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে নতুন কৌশল তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের মতো জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্যও ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
