দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মিস ইউনিভার্সের ঝলমলে লাইটের নিচে যখন ১২১ দেশের রঙিন পোশাকের ঝলকানি, তখন হঠাৎ এক টুকরো চাঁদ নেমে এল মঞ্চে। সাদা জামদানি। পাতলা যেন মেঘের আঁচল, তার ওপর শাপলার নকশা যেন নদীর জলে ভাসছে। পরনে তানজিয়া জামান মিথিলা। কিন্তু আজ কেউ মিথিলাকেই দেখেনি। সবাই দেখেছে শুধু জামদানিকে। বাংলার জামদানিকে।
এই একটা শাড়িই যেন আটকে দিয়েছে পুরো বিশ্বের শ্বাস। মিথিলা হেঁটেছেন মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডে জামদানি পৌঁছে গেছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।

জামদানি শুধু কাপড় নয়। এটা বাংলার ঐতিহ্য। নারায়ণগঞ্জের তাঁতঘরে যে সুতোয় সুতোয় বোনা হয় হাজার বছরের ধৈর্য, সেই সুতোই আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যের মঞ্চে উড়ছে। শাপলার নকশা, পাতলা মসলিনের ঝিলিক, সাদা রঙে যেন বাংলার পুকুরের শাপলা ভাসছে। মিথিলা লিখেছেন, “দ্য কুইন অব বেঙ্গল”। কিন্তু আজ রানি শুধু জামদানিই।

মঞ্চ থেকে নেমে মিথিলার চোখে পানি। আবেগাপ্লুত হয়ে লাইভে বললেন, “আমি কাঁদতে কাঁদতে নেমেছি। জামদানি পরে যখন হাঁটছিলাম, মনে হচ্ছিল আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বাংলার লাখো তাঁতি। তাদের হাতের ছোঁয়া আমি অনুভব করছিলাম।”
আজ থেকে জামদানি আর শুধু বাংলার ঐতিহ্য রইল না। এটা হয়ে গেল বিশ্বের ঐতিহ্য। মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে যে শাড়ি পরে মিথিলা দাঁড়িয়েছেন, সেই শাড়িটাই বলে দিল: বাংলার জামদানির সামনে যে কোনো রঙই ম্লান হয়ে যায়।
