দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা করা হয়।
তিন সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এ রায় দেন। মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে অবস্থানরত প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন উচ্চস্বরে বলেন “এই রায় আমি মানি না, ‘জয় বাংলা’ “। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন এবং কেন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রায় প্রত্যাখ্যানের কথাও জানান তিনি।
আদালতে অবস্থানরত প্রতক্ষদর্শী আবু সায়েম বলেন, “দলীয় লোকের বাইরে প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে বিগত আওয়ামী সরকার কাউকেই নিয়োগ দেয়নি, যা আজকে নিজের চোখে আবার দেখলাম।” তিনি আরো বলেন, “ফাঁসির রায় শুনেও সে চিৎকার করে দলীয় স্লোগান দিয়ে গেলেন। ”
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, রংপুরে সংঘটিত আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আদালত এ রায় দিয়েছেন। মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়বদ্ধতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন নির্দেশ পালন ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
