দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথপাঠ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, শপথ নেওয়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন মূলত বিএনপি–এর অভিপ্রায় অনুযায়ী করা হচ্ছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাটি স্মরণীয় একটি স্থান, যেখানে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের ইতিহাস রচিত হয়েছে। উপদেষ্টার ভাষ্য, “আমাদের এই সংসদটা একটু ভিন্ন। এখানে জুলাইয়ে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থান, অনেক কষ্ট ও প্রাণহানির বিনিময়ে এই সংসদ আমরা পেয়েছি।” তিনি জানান, এই প্রাঙ্গণে বিগত সময়ে ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা অনুষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই সংসদ প্রাঙ্গণের পাশেই প্রয়াত রাষ্ট্রনায়ক বেগম খালেদা জিয়ার ও শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল, যা এই স্থানের প্রতি একটি বিশেষ মূল্যবোধ তৈরি করেছে।
বর্তমানে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দক্ষিণ প্লাজা প্রস্তুতি চলছে। এটি সাধারণ প্রথা থেকে ভিন্ন, কারণ স্বাধীনতার পর থেকে সরকারের শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাই এই বারোتمي অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হবে, যেখানে সকাল—বিকেলে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ একসাথে নেওয়া হবে বলে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঐতিহাসিক ও প্রতীকী কারণে শপথ অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি আয়োজক পক্ষের সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি প্রেক্ষাপট।
