দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মারা গেছে ৯ শিশু এবং সিলেটে ১ শিশু।
শুক্রবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মোট ৭৩২ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং পরীক্ষায় ৫৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে ৪৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯০ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট ৬৮ হাজার ৫৭৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৯৮ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫১ হাজার ৫১১ শিশু।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে ৮ হাজার ৯৪৩ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর প্রধান উপসর্গ। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা না নিলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও সংক্রামক রোগ ইউনিটগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন তারা।
