দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং পুরোনো জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন ৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন ১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বর্জ্য জমে থাকতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদুল আজহায় রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পশুবর্জ্য তৈরি হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের হাজারো পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে কাজ করছেন। নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
নগর বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির সময় রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাৎক্ষণিক পরিষ্কার কার্যক্রম নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তারা আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক নাগরিক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, শুধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে হবে।
