দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে টানা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ আজ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শুরু হচ্ছে। কূটনৈতিক এই উদ্যোগ ঘিরে একদিকে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল-এর লেবাননে চলমান হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তান সরকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে সংলাপ আয়োজন করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স, আর ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্বে রয়েছেন আব্বাস আরাঘচি। এছাড়া আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়। তেহরানের মতে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন-কেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবানন পরিস্থিতি আলাদা বিষয়।
এই মতবিরোধই এখন আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সমাধান না হলে সংলাপ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত অচল অবস্থায়। বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এখানে টোল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই ইস্যুতে সমঝোতা না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে তাদের বিপুল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ ১৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।
এই সংলাপকে অনেকেই যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর শেষ বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে বাস্তবতা হলো—
লেবাননে যুদ্ধ চলমান
হরমুজ ইস্যু অমীমাংসিত
পারস্পরিক অবিশ্বাস তীব্র
সব মিলিয়ে, আলোচনা শুরু হলেও তাৎক্ষণিক স্থায়ী সমাধান আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবুও কূটনৈতিক পথ খোলা থাকাটাই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
সূত্র: আল জাজিরা
