দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে সরকারি পদে বহাল রাখার অভিযোগে নেপালের এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নেপাল এর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি এর সুপারিশের ভিত্তিতে। দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে জানান, দলের শৃঙ্খলা কমিশনের তদন্তে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দীপক কুমার শাহ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে তার স্ত্রী জুনু শ্রেষ্ঠাকে স্বাস্থ্য বীমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে বহাল রাখেন। অথচ ওই পদটি দীর্ঘদিন কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। বিষয়টি দলের নীতি ও স্বচ্ছতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় চিঠিতে আরও বলা হয়, এমন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। দলীয় সংবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দলটির সুপারিশ গ্রহণ করে দ্রুতই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করেন। পাশাপাশি নিশা মেহতা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যামন্ত্রীকে বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন দি কাঠমান্ডু পোস্ট, রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে, এই ঘটনায় নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের জবাবদিহিতা বাড়ানোর বার্তা দিলেও, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি হয়ে উঠছে।
সূত্র: The Kathmandu Post
