লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

এস আলমের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ঘিরে নতুন জটিলতা

প্রকাশিত: 18 মে 2026

21 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চলমান আইনি ও আর্থিক জটিলতার কারণে সরকার আপাতত এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাইফুল আলম পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচার, ব্যাংক ঋণ অনিয়ম এবং বিদেশে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন অনুমোদন করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ জব্দ এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।

এর আগে ২০২০ সালেও সাইফুল আলম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছিলেন। তখন সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেই আবেদন অনুমোদন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে পরে ইসলামী ব্যাংকের করা এক রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। ফলে বর্তমানে তাঁর নাগরিকত্বের প্রশ্নটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (আইসিএসআইডি) এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সালিসি মামলা করেছেন সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মামলায় তারা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকার তাদের সম্পদ জব্দ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। তারা নিজেদের সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করে ২০০৪ সালের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির সুরক্ষা দাবি করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। আগামী ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে এস আলম পরিবারের নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুদক, এনবিআর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সংস্থার কাছে মতামত চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নাগরিকত্ব প্রশ্ন নয়; বরং অর্থ পাচার, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইন, রাষ্ট্রীয় আর্থিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বড় অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman