দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে। বয়স্কভাতা ও বিধবা ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা বয়স্কভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচি আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং চলাচল সহজ করতে নতুন সুবিধার প্রস্তাব দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ চালু করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি তাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ১ হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। ভাতাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করা হবে এবং শিক্ষার স্তরভেদে মাসিক সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই কর্মসূচি মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি এবং প্রান্তিক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবারের বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সুবিধাভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
