লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পুরোনো লোকোমোটিভ সংকটে বিপর্যস্ত রেলযাত্রা, ঈদযাত্রায় বড় শঙ্কা

প্রকাশিত: 19 মে 2026

29 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভের কারণে ট্রেন চলাচলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত এক বছর চার মাসে ইঞ্জিন বিকলের কারণে ট্রেন বিলম্ব হয়েছে মোট ৭৯১ ঘণ্টা, যা প্রায় ৩৩ দিনের সমান। এতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং আসন্ন ঈদুল আজহার যাত্রায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে মোট লোকোমোটিভ রয়েছে ১৪০টি। এর মধ্যে সচল আছে মাত্র ৭১টি। বাকি অংশের বড় একটি সংখ্যা মেয়াদোত্তীর্ণ। প্রায় ১০৫টি ইঞ্জিন অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। কোনো কোনো ইঞ্জিনের বয়স ৭৩ বছর পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে নিয়মিত মেরামত করেও সেগুলো স্থিতিশীলভাবে চালানো যাচ্ছে না।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইঞ্জিন বিকলের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। জানুয়ারিতে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫টি, মার্চে ২৭টি এবং এপ্রিলে ২৮টি ইঞ্জিন মাঝপথে বিকল হয়। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৭৯টি বিকলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আন্তঃনগর ট্রেনে। তিস্তা এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস এবং ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন প্রায় নিয়মিত দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। ঢাকা ও আশপাশের রুটে সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও সিলেট রুটে পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে বারবার সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

একজন যাত্রী তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ে না, পথে থেমে যায়, আর ভেতরের সেবার মানও অনেক কম। এসি কোচেও ভিড়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনিয়মিত সেবা যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো ইঞ্জিনগুলোর যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যায় না। ফলে মেরামতের পরও বারবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের ঘাটতির কারণে একটি ট্রেনের পরই দ্রুত আরেকটি রুটে পাঠাতে হচ্ছে লোকোমোটিভ, যার ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা পরীক্ষা করার সুযোগ মিলছে না।

একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী জানান, ইঞ্জিন সংকট রয়েছে এবং সেটি যাত্রীসেবায় প্রভাব ফেলছে। নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত আধুনিক লোকোমোটিভ যুক্ত না হলে ঈদসহ বড় মৌসুমে রেল যোগাযোগ আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রেল ব্যবস্থার এই দুর্বলতা শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman