দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
গত রাতে (২৮ মার্চ) তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলায় ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (Iran University of Science and Technology)-এর একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি মিডিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি ও অন্যান্য স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রাতের প্রথম প্রহরে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাসও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করে।
ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনও স্পষ্ট করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপকসহ তার দুই সন্তান আলাদা একটি হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্বর আক্রমণ” বলে অভিহিত করে বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের সরাসরি লঙ্ঘন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও এই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে চলমান সংঘাতে উভয় দেশ ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিক্রিয়া
ইরানের বিভিন্ন শিক্ষা সংস্থা ও ছাত্র সংগঠন এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা শুধু ইরান নয়, পুরো বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত।
এ ঘটনা ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এই হামলার নিন্দা জানাতে শুরু করেছে এবং সংঘাত অবিলম্বে থামানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
