লেখক: সালাহ উদ্দিন টিটো । সিনিয়র সাংবাদিক |
রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশজুড়ে প্রশ্ন ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর শুটার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
হত্যার পরপরই ভারতের কিছু গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ মহল ওসমান হাদিকে ‘উগ্র সলামপন্থী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই দাবীর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। ওসমান হাদি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আসন্ন নির্বাচনে তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
হাদী বিদেশী সংস্কৃতির আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতি ও নিজস্বতাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন এবং এই ব্যাপারে তার অবস্থান সুস্পষ্ট ছিল। তিনি সহিংস রাজনীতির বিপরীতে শিল্প, সাহিত্য ও গণসচেতনতার মাধ্যমে প্রতিবাদে বিশ্বাস করতেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছিল কবিতা, সংগীত ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, কোনো সশস্ত্র সংগঠন নয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনায় হাদি ছিলেন সরব। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন নীতির বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। প্রচলিত ভারতীয় বয়ান ভেঙে খাঁটি বাংলাদেশী বয়ান নির্মাণ তার মূল উদ্দেশ্য ছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে উগ্রবাদী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনাকে তুলনা করছেন। তাদের মতে, সমালোচনামূলক কণ্ঠ রোধের ধারাবাহিকতাই আবার সামনে এসেছে।
ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি ভিন্নমত, সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।
