দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জনগণকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তা নির্মূলে আরও সক্ষম করে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান শুধু নয়, পুরো অঞ্চল থেকেই সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাঁর দেশ।
ইসলামাবাদে ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত ‘পাকিস্তানের পরিবর্তনশীল সন্ত্রাসবাদবিরোধী পরিস্থিতি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তারার বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মানুষ এখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং তা স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে আরও বেশি সক্ষম ও ক্ষমতায়িত হবেন। তাঁর ভাষায়, গতকাল ঘটে যাওয়া একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে বক্তব্যে তিনি ওই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।
তারার আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মানুষ উন্নত জীবন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, জনকল্যাণ ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সন্ত্রাসবাদের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দৃঢ় সংকল্প ও মানসিক শক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাঁদের ধারণা রয়েছে এবং সেগুলো মোকাবিলার সক্ষমতাও আছে।
বক্তব্যটির পটভূমিতে রয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, প্রাদেশিক প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ দমনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ করে আসছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাদেশিক সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। অন্যদিকে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের অভিযোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। ফলে সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নটি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারার একই সম্মেলনে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের অবস্থান ও তৎপরতা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তারারের বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন বাস্তবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী তৎপরতায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা কার্যক্রম, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা নিশ্চিত করার ওপর।
