দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভারতকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের শাসক দলের জ্যেষ্ঠ যুবনেতা কামরান সাঈদ উসমানি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভারতের যেকোনো হুমকি কেবল ঢাকা নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য সংকট তৈরি করবে এবং এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
উসমানি দাবি করেন, বাংলাদেশ যদি বহিরাগত আগ্রাসন বা চাপের মুখে পড়ে, তাহলে পাকিস্তানের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে পাকিস্তানের মিসাইলগুলো ভারত থেকে দূরে নয়।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হলে এর দায় ভারতকেই নিতে হবে। এই সংবাদটি ভারতীয় জি নিউজ ইংলিশ তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছে।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হালের সবচেয়ে তরুণ নেতা ওসমান হাদী আততায়ীর গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছেন এবং বাংলাদেশে এই হত্যার ব্যাপারে বলা হচ্ছে পতিত আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান হাসিনা ও ভারতীয় ইন্ধন আছে। এছাড়াও ধর্মাবমাননার নামে এক সংখ্যালঘু ব্যাক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেশে সহিংসতা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উপর উগ্রহিন্দুত্ববাদী হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উসমানির বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাজনৈতিক নেতাদের এমন মন্তব্যকে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় উসকানি হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগেরই প্রতিফলন এই বক্তব্য।
বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে চলমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
