দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই জমে উঠেছে আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াইগুলোর একটি। সোনার জুতা জয়ের প্রতিযোগিতায় বর্তমানে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi। তবে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফ্রান্সের Kylian Mbappé এবং নরওয়ের Erling Haaland।
দুই ম্যাচ শেষে পাঁচ গোল নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলতেই সাহায্য করেননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যাও আরও সমৃদ্ধ করেছেন। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে দুই গোল করে প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এমবাপ্পে। একই দিনে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে জয় এনে দেন হালান্ড।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত দ্রুত গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা খুব কমই এত উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। দুই ম্যাচ শেষে তিনজন খেলোয়াড়ের চার বা তার বেশি গোল করার ঘটনা বিরল। ফলে আসরের শুরুতেই ব্যক্তিগত রেকর্ড ও দলীয় সাফল্যের লড়াই একসঙ্গে সামনে চলে এসেছে।
৩৮ বছর বয়সী মেসি বর্তমানে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার ক্ষমতার অনন্য সমন্বয় দেখাচ্ছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দলের সব গোলেই তার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা এখনও তাকে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে এমবাপ্পে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন। শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড বলা হয়। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং ক্ষমতা ফ্রান্সকে শিরোপা লড়াইয়ে বড় সুবিধা দিচ্ছে।
তবে গোল করার ধারাবাহিকতায় কাউকেই ছাড় দিতে রাজি নন হালান্ড। নরওয়ের এই তারকা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ গোলসংখ্যা গড়ে তুলেছেন। শারীরিক শক্তি, অবস্থান নির্বাচন এবং বক্সের ভেতরে নির্মম দক্ষতা তাকে প্রতিটি ম্যাচেই ভয়ংকর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ কাঠামোতে ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গোলদাতাদের সামনে রেকর্ড গড়ার সুযোগও বেড়েছে। ফলে শুধু গোল্ডেন বুট নয়, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ঐতিহাসিক গোলরেকর্ডও এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসবে, ততই তীব্র হবে এই প্রতিযোগিতা। আপাতত সবার নজর মেসি, এমবাপ্পে এবং হালান্ডের দিকে। শেষ পর্যন্ত সোনার জুতা কার পায়ে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটি ম্যাচ।
