দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো বিদেশি আইন প্রতিষ্ঠান চিঠি পাঠিয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে ধরনের কোনো চিঠি প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পায়নি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। প্রসিকিউশনের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা নথি পৌঁছেনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আলোচিত চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বা আনুষ্ঠানিক পরিচয় উল্লেখ নেই। এমনকি সম্বোধনে ‘ডিয়ার আইসিটি’ লেখা হয়েছে, যা একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক মানের কোনো আইন প্রতিষ্ঠান হলে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের কথা নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, কথিত চিঠিদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কিংসলে ন্যাপলে’ নামে যে সংস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্য অনলাইন উপস্থিতি বা যাচাইযোগ্য তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিচার চলাকালে বিভিন্ন ভুয়া বা সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আদালত ও জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। এ ধরনের কার্যক্রম আদালত অবমাননার পর্যায়েও পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সত্যিই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কাজ করে থাকে, তাহলে তাদের আইনগত বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বের প্রমাণ থাকতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি লবিং বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিতর্ক আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাভাবিক নিয়মেই বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
