দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শতাধিক আসনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা। একক প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তের কারণে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী নেতারা। ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলে বাড়ছে অসন্তোষ ও বিভক্তি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক আসনে একই ব্যক্তি দলীয় ও স্বতন্ত্র উভয়ভাবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। এ পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিদ্রোহ ঠেকাতে প্রতি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এবার সেই কৌশল না নেওয়ায় মনোনয়নবঞ্চিতদের বড় একটি অংশ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী একটি আসনে দল চাইলে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে, তবে বিএনপি এখনো সে সুযোগ নেয়নি।
এরই মধ্যে পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, মাগুরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, সিলেট ও গোপালগঞ্জসহ বহু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। কোথাও মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ, কোথাও জোট রাজনীতির কারণে অসন্তোষ, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতৃত্ব উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ তুলছেন নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই কোন্দল নিরসন করতে না পারলে বিএনপির নির্বাচনী সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা আসতে পারে। এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে দলীয় ঐক্য, তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমন এবং বিদ্রোহীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
