দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক এবং ডনের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। ডনের পক্ষ থেকে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আবেদনে মামলাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অন্যদের অবস্থান শনাক্ত এবং ডনের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টার কারণ জানার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে অভিবাসন পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন নাকচ করেন আদালত।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ছাড়াও তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম গত বছরের ২০ অক্টোবর পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে মামলাটি করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, র্যাব এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন মামলাটি তদন্ত করে। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় এবং হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে ওই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত তার রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে হত্যার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি নতুন করে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তদন্তের অংশ হিসেবে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মামলার অন্যতম আসামি ডনের রিমান্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন করে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
