লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সেক্টর কমান্ডার ‘বীর উত্তম’ মেজর খালেদ মোশাররফ

প্রকাশিত: 15 ডিসেম্বর 2025

57 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । বিজয় ১৯৭১ ।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একটি অসাধারণ বীরত্বের গল্প হলো **মুক্তিবাহিনীর ** এবং তার সঙ্গীদের সাহসের।

১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাসে, পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মেঘনা নদীর পূর্ব পাড়ে শ্রীপুর-শ্রীনগর এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটি ছিল। এই ঘাঁটি থেকে তারা মুক্তিবাহিনীর সরবরাহ লাইন ও গেরিলা অভিযানে বাধা দিচ্ছিল।

মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে মাত্র ১৫০-২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও যুবক, সেখানে আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। পাকিস্তানি সেনারা ছিলেন সংখ্যায় অনেক বেশি এবং তাদের কাছে ছিল ভারী অস্ত্র ও আর্টিলারি।

রাতের অন্ধকারে মুক্তিযোদ্ধারা নদী পার হয়ে শত্রু ঘাঁটির দিকে এগিয়ে যান। খালেদ মোশাররফ নিজে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্য দিয়ে তারা একের পর এক বাঙ্কার দখল করেন। এক পর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা কাউন্টার অ্যাটাক করলে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশ কয়েকজন শহীদ হন। কিন্তু খালেদ মোশাররফের অটুট সাহস ও নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা হাল ছাড়েননি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খালেদ মোশাররফ নিজে হাতে গ্রেনেড নিয়ে শত্রুর একটি মেশিনগান বাঙ্কারে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তা ধ্বংস করেন। এরপরও আহত অবস্থায় তিনি সৈন্যদের উৎসাহ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ঘাঁটিটি দখল হয় এবং পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। এই জয় মুক্তিবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি মেঘনা নদীর একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এবং পরবর্তী অভিযানের পথ সহজ করে।

এই যুদ্ধে খালেদ মোশাররফের অসাধারণ সাহসের জন্য তিনি পরে ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman