দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ক্ষমতা এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির স্নেইল বা শামুক তাদের চোখ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনরায় নতুন করে গজিয়ে তুলতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এই পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মানুষের চোখের আঘাত, স্নায়ু ক্ষতি এবং অন্ধত্ব চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, স্নেইলের চোখ পুনর্গঠনের পেছনে কাজ করে অত্যন্ত সক্রিয় স্টেম সেল এবং বিশেষ রিজেনারেটিভ জিন। চোখের অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও এসব কোষ দ্রুত নতুন টিস্যু তৈরি শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কার্যকর চোখ গঠন করে। গবেষকরা এখন পরীক্ষা করছেন, একই ধরনের জিনগত সংকেত মানুষের কোষে সক্রিয় করা সম্ভব কি না।
গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, যদি এই প্রক্রিয়া মানবদেহে নিরাপদভাবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে কর্নিয়া ক্ষতি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, অপটিক নার্ভ ইনজুরি এবং দুর্ঘটনায় চোখ হারানো রোগীদের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ বা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্জন্মভিত্তিক চিকিৎসা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রাণীর পুনর্জন্ম ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা চলছে, যার লক্ষ্য মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ বা টিস্যু পুনর্গঠন করা। স্নেইলের চোখ নিয়ে গবেষণা সেই ধারারই নতুন সংযোজন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ গবেষণার গুরুত্ব আরও বেশি। দেশে কর্নিয়া রোগ, ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতা এবং চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর অনেক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারান। ভবিষ্যতে পুনর্জন্ম প্রযুক্তি কার্যকর হলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবদেহে প্রয়োগের আগে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। তবুও এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে, প্রকৃতির ভেতরেই লুকিয়ে আছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ সমাধান।
