দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৪ মার্চ। দীর্ঘদিন ধরে ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলকে ঘিরে চলা পরীক্ষার সময়সূচিতে এবারও পরিবর্তন এসেছে। এর আগে ৭ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা থেকে সরে এসে রমজান ও ঈদুল ফিতরের পর পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
নতুন সূচি অনুযায়ী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে দুপুর ১টায়। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় ৭ থেকে ১৪ জুন।
পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে সাধারণ বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি নতুন সূচি অনুমোদন করে। এরপর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হবে। সে সময় তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয়ের যুক্তিতে পরীক্ষাকে বছরের শুরুতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
কিন্তু সিদ্ধান্তটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে চলতি শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময় কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানায়, অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে জানুয়ারির সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
নতুন সিদ্ধান্তে সেই পুনর্বিবেচনাই বাস্তব রূপ পেল। রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে মার্চে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীরা আগের পরিকল্পনার তুলনায় কয়েক মাস বেশি প্রস্তুতির সময় পাচ্ছে।
এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও ছিল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তারা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় পড়াশোনা করেছে। পরে নবম ও দশম শ্রেণিতে এসে ২০১০ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে পড়েছে। এর মধ্যে পাঠ্যবই পেতে বিলম্বসহ নানা কারণে তাদের শিক্ষাবর্ষে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার সময়সূচি দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মহামারির কারণে একসময় স্বাভাবিক শিক্ষাপঞ্জি ভেঙে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রভাবও শিক্ষা কার্যক্রমে পড়ে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হয়েছিল এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা জুনে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের সাম্প্রতিক শিক্ষা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শেখার ঘাটতি, ঝরে পড়া এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শিক্ষা সম্পন্ন করার আগেই ঝরে পড়ে। ফলে পরীক্ষার সময়সূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখার মান ও নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
নতুন সূচিতে পরীক্ষা মার্চে শুরু হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আপাতত স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শুধু সময়সূচি পরিবর্তন নয়, নির্ধারিত সময়ে পাঠদান শেষ করা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন শিক্ষা প্রশাসনের বড় দায়িত্ব।
এসএসসি ২০২৭ এর রুটিন

