লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট সদস্য, টেকনোক্র্যাট আসলে কি

প্রকাশিত: 17 ফেব্রুয়ারী 2026

33 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট সদস্য অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।

মোট ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে দুজন এবং প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে একজন টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন খলিলুর রহমান ও আমিনুর রশিদ হাজী ইয়াসিন। খলিলুর রহমান এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে টেকনোক্র্যাট কোটায় থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। তিনি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হওয়ার কথা রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী, কেন এবং সংবিধান কী বলছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটার আলোচনা এখন বেশ জোরালো। অনেকের প্রশ্ন, সংসদ সদস্য না হয়েও কীভাবে কেউ মন্ত্রী হন, আর এমন বিধানই বা কেন রাখা হয়েছে।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী?
সহজ ভাষায়, যিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়।

সাংবিধানিক ভিত্তি
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো, তাদের সংসদ সদস্য হওয়ার সব সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকতে হবে।
অর্থাৎ তারা নির্বাচনে অংশ না নিলেও আইনগতভাবে সংসদ সদস্য হওয়ার উপযুক্ত হতে হবে।

কেন এই বিধান?
১. বিশেষজ্ঞ জ্ঞান যুক্ত করা : অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্যসহ জটিল খাতে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।
২. মেধা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন : দলের ভেতর বা বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা যায়।
৩. রাজনৈতিক ভারসাম্য : কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বা পরাজিত হলেও তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সংসদ সদস্য না হয়েও কীভাবে মন্ত্রী হন?
– সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ক্ষমতা দিয়েছে।
কতজন হতে পারেন?
– মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ।
তারা কি সংসদে ভোট দিতে পারেন?
– না। তারা বক্তব্য রাখতে পারেন, কিন্তু ভোট দিতে পারেন না।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা?
– পূর্ণ মন্ত্রীর সমান।
দায়বদ্ধতা?
– প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সংসদের কাছে।
বিদেশি নাগরিক হতে পারেন?
– না। সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকলে মন্ত্রী হওয়া যায় না।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কি নিয়োগ সম্ভব?
– হ্যাঁ।
শপথ পাঠ করান কে?
– রাষ্ট্রপতি।
এ কোটা ব্যবহার বাধ্যতামূলক?
– না, এটি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman