লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

‘এটি গ্রেপ্তার বা আটক নয়, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল’: পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে ধ্রুব রাঠীর বক্তব্য

প্রকাশিত: 13 অক্টোবর 2026

36 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিনাস । বিশেষ প্রতিবেদন ।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে এক ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠী । প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে থাকার পর গভীর রাতে মুক্তি পান তিনি ।

মুক্তি পাওয়ার পর তিনি এই পুরো ঘটনাটিকে সাধারণ কোনো পুলিশি আটকাদেশ নয়, বরং সরাসরি ‘অপহরণ’ এবং দেশে একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন ।

ধ্রুব রাঠী জানান, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এ অবস্থিত তাঁর বাসভবনে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাদা পোশাকে প্রায় ২০ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রবেশ করে ।

তিনি বলেন, “আমাকে শয়নকক্ষ থেকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পায়ে চটি জুতো পরার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং আমার মাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।”

হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৌলিক ও নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি । ধ্রুব রাঠী উল্লেখ করেন:

দীর্ঘ সময় তাঁকে আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে ফোনে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি । তাঁকে কোনো আনুষ্ঠানিক ওয়ারেন্ট বা আইনি কাগজপত্র দেখানো হয়নি । আটক করার সময় তাঁর গায়ে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয় এবং শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয় ।

‘এটি আটক নয়, অপহরণ’

ধ্রুব রাঠী বলেন, “আমি যদি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতাম এবং সেখান থেকে প্রশাসন আমাকে সরিয়ে দিত, তবে সেটিকে আটক বলা যেত । কিন্তু নিজের ঘরের ভেতর থেকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অধিকার না দিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া কোনো গণতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি স্রেফ অপহরণ।”

সাংবাদিক: বিদেশি শক্তির প্রভাব ও গণতন্ত্র নিয়ে আপনার মতামত কি ?

ধ্রুব রাঠী:  ভীতু কারা? তারা চীনকে ভয় পায়, আমেরিকাকে ভয় পায়, ইলন মাস্ককে ভয় পায়। আর আমি সবার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছি।

আমাকে বলা হচ্ছে, আমি আমেরিকার অর্থায়নে চলি। আমেরিকা আমাকে কেন অর্থায়ন করবে? আমেরিকা যা করাতে চায়, নরেন্দ্র মোদি তো সেটাই করছেন। আমেরিকা থেকে যে নির্দেশ আসে, নরেন্দ্র মোদি তা অনুসরণ করেন।

আমি মাত্র ৭০ হাজার নামের কথা বলছি। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ভোট দেওয়ার সময় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁদের নাম আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

এটা কেমন গণতন্ত্র, যেখানে আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না? এমন তো হতে পারে না যে আমি এখানে জালিয়াতি করলাম, নির্বাচনে জিতে গেলাম, আর পরের দিন বললাম, ‘দুঃখিত, আমার ভুল হয়ে গেছে। সেই ভুলের কারণেই আমি নির্বাচনে জিতে গেছি। পরেরবার আপনারা দেখে নেবেন। এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না।

ধ্রুব রাঠী : আপনারা প্রশ্ন করার আগে আমি একটি কথা বলতে চাই। আজ দেশের পরিস্থিতি দেখুন। হরিয়ানার একটি কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা, ছোট একটি গ্রামের একজন ইউটিউবার সংবাদ সম্মেলন করছেন। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী গত ১২ বছরে একটিও সংবাদ সম্মেলন করতে পারেননি।

আমি মনে করি, প্রত্যেক জনপরিচিত ব্যক্তির জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা উচিত। এ কারণেই সংবাদ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই আজ আমি আপনাদের সামনে এসেছি।

আরেকটি কারণ হলো, অনেক সাংবাদিক আমার সাক্ষাৎকার নেওয়ার এবং আমাকে প্রশ্ন করার অনুরোধ করছিলেন। তাই ভাবলাম, সবার প্রশ্ন একসঙ্গে উত্তর দেওয়া যাক। এতে সবার সময় বাঁচবে।

তাহলে বলুন, কে প্রথম প্রশ্ন করতে চান?”

সাংবাদিক: আটকের সময় কী ঘটেছিল?

ধ্রুব রাঠী : আমি হিন্দিতে উত্তর দেব। যখন তারা আমাকে আটক করেছিল, তখন আমি ‘অপহরণ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম। এক অর্থে, এটি ছিল অপহরণ। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। তারা আমার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ঘটনাক্রমে আমার মা দরজা খুলেছিলেন। তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তিনি চিৎকার করে ওঠেন। এরপর প্রায় ২০ জন লোক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে।

আমার বাবা ওপরতলার অন্য একটি শোবার ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। তারা সেখানে পৌঁছেই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাঁচজন মিলে তাঁকে চেপে ধরে। তিনি প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগও পাননি। একজন তাঁর এক হাত, আরেকজন অন্য হাত ধরে। আরেকজন তাঁর গলা চেপে ধরে।

এরপর তারা আমার শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে আসে। আমার বাবা চিৎকার করছিলেন। তারা আমার ঘরে ঢুকে একইভাবে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে এমনভাবে চেপে ধরে, যাতে আমি নড়াচড়া করতে না পারি। একপর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিল, আমি যেন ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছি না।

একবার ভাবুন, মাত্র পাঁচ সেকেন্ড আগে আমার ঘুম ভেঙেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারা কারা?’ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই একজন আমার মুখে হাত চেপে ধরে, অন্যজন আমাকে পাশ থেকে ধরে এবং আরও দুজন আমার পা চেপে ধরে।

প্রায় ২০ জন লোক আমাদের বাড়িতে ঢুকেছিল। তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া বা কোনো প্রশ্ন করার সুযোগও আমাকে দেওয়া হয়নি।

তাদের কারও গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না। কারও গায়ে নাম লেখা পরিচয়পত্রও ছিল না।

তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে টানতে গিয়ে এবং আসবাবপত্রের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে। আপনারা আমার শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলো দেখতে পারেন। তারা আমাদের সব ফোন নিয়ে নেয়। সেখানে আর কেউ ছিল না। কারণ আমি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখি এবং সাধারণত অনেক লোকজন নিয়ে চলাফেরা করি না। এরপর অনেকে আমাকে বলেছেন, ‘আপনার তো আমাদের শুধু একবার বলা উচিত ছিল। আমরা হরিয়ানা থেকে এক হাজার তরুণকে নিয়ে আসতাম, আপনাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য।’

কিন্তু আমি বলেছি, না। আমার এখনো নিজের দেশের ওপর বিশ্বাস আছে। আমি ভাবিনি, আমার সঙ্গে এমন কিছু ঘটতে পারে।এভাবে লোক পাঠিয়ে কারও সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, তা দেখা সত্যিই হৃদয়বিদারক।

তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে। এমনকি নিজের চটি পরার সুযোগটুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। পানি পান করার সুযোগ বা অন্য কোনো কিছুর কথা তো বাদই দিলাম।

তারা আমাকে সরাসরি একটি গাড়িতে তুলে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যায়। ততক্ষণে বাড়ির বাইরে ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাকে প্রথমে একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। গাড়িতে যাওয়ার সময় পেছনের আরেকটি গাড়িতে থাকা একজন আমাকে দেখছিলেন এবং হাত নাড়ছিলেন। তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা তাঁকে বলছিল, ‘এদিকে কী দেখছেন? মুখ ঘুরিয়ে নিন, সামনে যান।’

প্রথম পুলিশ স্টেশনে নেওয়ার পর তাদের মনে হয়েছিল, সেখানে লোকজন জড়ো হতে পারে। তাই তারা আমাকে অন্য একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা চেয়েছিল, আমাকে এমনভাবে নিয়ে যেতে, যাতে কেউ দেখতে না পায়। এ কারণেই আমার মনে হয়েছে, ঘটনাটি অপহরণের চেয়ে কম কিছু নয়।

তবে একটি ভালো দিক ছিল। পুলিশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর একজন কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে বলে আমি দুঃখিত। কিন্তু ওপর থেকে নির্দেশ এসেছিল। এরপর তারা আমার সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করে। আমার প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে, আমার যা প্রয়োজন, তা দেওয়া হবে।

শুধু একটি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওপর থেকে নির্দেশ আসায় আমাকে আটক রাখতে হবে এবং মোবাইল ফোন দেওয়া যাবে না। এটি খুবই অদ্ভুত পরিস্থিতি। কাউকে আটক করা হলে তাকে কখনো কখনো মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। গৃহবন্দি অবস্থাতেও ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। আর কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রেপ্তারের নথিপত্র দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এগুলোর কোনোটিই যথাযথভাবে ঘটেনি। এ কারণেই আমি ঘটনাটিকে অপহরণ বা অপহরণের মতো একটি ঘটনা বলে মনে করি।”

সাংবাদিক:  আপনাকে নিয়ে একটি বন্ড বা মুচলেকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আপনি কি কোনো বন্ডে স্বাক্ষর করেছেন? ভবিষ্যতে প্রতিবাদে অংশ নেবেন না—এমন কোনো নিশ্চয়তা কি দিতে হয়েছে?

ধ্রুব রাঠী : আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কোনো বন্ডে স্বাক্ষর করিনি। আমাকে মুক্তি দেওয়ার সময় তারা বলেছিল, আমি যা করতে চাই, করতে পারি। তারা শুধু একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল যে আমার মোবাইল ফোন আমাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমি শুধু ওই কাগজেই স্বাক্ষর করেছি। প্রতিবাদে অংশ নেব না—এমন কোনো অঙ্গীকার আমি করিনি।”

সাংবাদিক:  আপনি এখন পাসপোর্ট দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, আপনি বিদেশি নাগরিক এবং বাইরে থেকে ভারতে এসেছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ধ্রুব রাঠী :“আমাকে বাধ্য হয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হয়েছে। কারণ, আর্নব গোস্বামীর মতো কিছু সাংবাদিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে শুরু করেছিলেন। মানুষ আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটিকে ন্যায্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল। তারা বলছিল, আমি নাকি প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখি না, কারণ আমি বিদেশি পাসপোর্টধারী। এ কারণেই আমাকে প্রমাণ দিতে হয়েছে।

আমি সব সময় বলেছি, আমি ভারতের নাগরিক। যে কেউ উইকিপিডিয়া খুলে দেখতে পারত, সেখানেও আমাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো এআই ব্যবস্থাকে জিজ্ঞাসা করলেও একই উত্তর পাওয়া যেত।

প্রথমে ভেবেছিলাম, যারা আমাকে সমর্থন করে, তাদের কাছে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গুজব এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত আমি পাসপোর্ট দেখিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছি।”

সাংবাদিক:  আপনি ভারতে কত দিন থাকবেন? আপনি কি বিশেষভাবে এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্যই এসেছেন?

ধ্রুব রাঠী : হ্যাঁ, মূলত সে কারণেই এসেছি। প্রতিবাদে অংশ নেওয়াই আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি আন্তরিকভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। ভোট চুরি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ভোটের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে যেভাবে ভোট নিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে দেশটিকে সুস্থ গণতন্ত্র বলা যায় না। আমি সব সময় বলেছি, গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রকে একটি ধারাবাহিকতার দুই প্রান্ত হিসেবে দেখতে হবে। কোনো দেশকে সরাসরি শতভাগ গণতান্ত্রিক অথবা শতভাগ একনায়কতান্ত্রিক বলা যায় না।

২০১৪ সালের আগে আমরা এই ধারাবাহিকতার একটি অবস্থানে ছিলাম। এরপর থেকে আমরা অন্য দিকে সরে গেছি এবং ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সাংবাদিক: কংগ্রেস, ইন্ডিয়া ব্লক এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করছে। রাহুল গান্ধীও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। এটিকে কি সম্মিলিত আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিত, নাকি প্রত্যেক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে?

ধ্রুব রাঠী : আমরা দেখেছি, ইন্ডিয়া ব্লকের বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ করে আসছে। আগামীকাল তারা ভারতের নাগরিকদের পক্ষে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যে এসব বিষয় সামনে আনছে, তা ভালো। তবে আমি একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিকোণ থেকে এসেছি। আমি ইউটিউবে এসব বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করি। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং বিহারের নির্বাচন নিয়েও ভিডিও তৈরি করেছি।

আমার মনে হয়েছে, এবারের বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে শুধু ভিডিও তৈরি করলেই হবে না। আমাকে সামনে এসে প্রতিবাদেও অংশ নিতে হবে। আমি ভেবেছিলাম, স্বাভাবিক একটি প্রতিবাদ হবে এবং মানুষকে প্রতিবাদ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এটি সম্মিলিত প্রতিবাদ, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এ প্রশ্নে আমি বলব, একে সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা উচিত।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের অহংবোধ বা মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এই ইস্যুতে তাদের একসঙ্গে আসা উচিত। একদিন একটি দল, পরের দিন আরেকটি দল এবং তার পরের দিন অন্য দল—এভাবে আলাদা আলাদা প্রতিবাদ করার পরিবর্তে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে।

সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।”

সাংবাদিক: কংগ্রেস আগামীকালের প্রতিবাদে অন্য বিরোধী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আপনি কি সেখানে অংশ নেবেন?

ধ্রুব রাঠী : আমি পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব। ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রতিবাদে অংশ নিতে চাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমার বাড়ির চারপাশে লোকজন মোতায়েন করেছে। প্রায় ৫০ জন মানুষ ২৪ ঘণ্টা আমাকে নজরদারিতে রাখছে। তারা ক্রমাগত আমার ছবি তুলছে, আমি কখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছি, কে বাড়িতে আসছে—সবকিছুর ওপর নজর রাখছে।

তারা পরোক্ষভাবে আমাকে হুমকি দিয়েছে যে আমি যদি সামান্য প্রতিবাদেও অংশ নিই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আটক করা হবে। তাই হ্যাঁ, হুমকি রয়েছে। আমি অংশ নিতে চাই, তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখতে হবে।”

সাংবাদিক: কেউ কি আপনাকে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন?

ধ্রুব রাঠী : আগে কেউ আমাকে নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি। আমি যখন দিল্লিতে আসার সিদ্ধান্ত নিই, তখন নিজের বিবেচনা থেকেই মনে হয়েছিল, এবার আমারও অংশ নেওয়া উচিত। আমি অভিজিৎকে ফোন করে বলেছিলাম, আমার মনে হচ্ছে, এবার আমারও আসা উচিত। সে আমাকে উৎসাহিত করে এবং আসতে বলে। সে আরও পরামর্শ দিয়েছিল, প্রথমে এমন একটি অনুষ্ঠানে যেতে, যেখানে প্রকাশ রাজ যুক্ত ছিলেন। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বিষয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল হওয়ার কথা ছিল।

আমার মনে হয়েছিল, সেখানে গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা যাবে। তাই প্রথমে সেখানে গিয়ে মাঠপর্যায়ে বিষয়টি বোঝার পর এখানে এসে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

সাংবাদিক: অভিজিৎ, দিব্য, সৌরভ দাস ও আশুতোষ আজ সকালে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কারও সঙ্গে কি আপনার সরাসরি কথা হয়েছে?

ধ্রুব রাঠী : তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। আমি রত্নার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সাধারণভাবে জানতে চেয়েছিলাম, তারা কেমন আছে, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না। সে জানিয়েছে, এখন দেখা যাক সামনে কী হয়।

সাংবাদিক: সিবিআই বা ইডির দিক থেকে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি?

ধ্রুব রাঠী : এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁদের কাছেই সরাসরি জানতে হবে। আমি এখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে এসেছি। আমি সিজেপির সঙ্গে যুক্ত নই বা কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আসিনি। দেশের লাখো মানুষের মতো আমিও ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছি।”

সাংবাদিক: অন্য কোনো রাজনৈতিক দল আপনাকে তাদের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালে আপনি কি যাবেন?

ধ্রুব রাঠী :হ্যাঁ। আগেই বলেছি, আমি প্রতিবাদে অংশ নিতে চাই। কিন্তু আমি রাজনীতিতে যোগ দিতে চাই না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে চাই না। কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই বিষয়টি সামনে আনে, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার কাছে মূল বিষয় হলো ইস্যুটি।”

সাংবাদিক: আদালত বলেছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড দেওয়া এবং বেআইনিভাবে আটক করা উচিত নয়। কিন্তু তারপরও আমরা ব্যারিকেড ও বিধিনিষেধ দেখতে পাচ্ছি। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ধ্রুব রাঠী : আজ বিচার বিভাগের হাতে কতটা ক্ষমতা রয়েছে, তা আমাদের বিবেচনা করতে হবে। অনেক দিন ধরেই মানুষ বলছে, সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। আমি আরও স্পষ্টভাবে বলব, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুজন ব্যক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। গণমাধ্যম, আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশন—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।

এমনকি পুলিশও চাপের মধ্যে রয়েছে। আমি যখন আটক ছিলাম, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, তাঁদের কতটা চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। আটকের পর আমি বুঝতে পেরেছি, আমি মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্দি ছিলাম। কিন্তু এই মানুষগুলো সারা বছর বন্দির মতো জীবন কাটান। তাঁদের পুরো জীবনটাই যেন বন্দিজীবন। তাঁদের অবস্থা দেখে আমার সত্যিই খারাপ লেগেছে। তাঁদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হয়, অথচ সেই তুলনায় তাঁদের বেতন কতটুকু?”

সাংবাদিক: সাংবাদিকদের আটক করা হচ্ছে। বিকল্প ও অনলাইন গণমাধ্যমে কাজ করা ব্যক্তিদের কাছে পিআইবি স্বীকৃতির কার্ড চাওয়া হচ্ছে। অনেকের কাছে তা নেই। তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আটকও করা হচ্ছে। আজ প্রজ্ঞাকে আটক করা হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর কয়েকজন সাংবাদিককেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ধ্রুব রাঠী : ঘটনাটি কখন ঘটেছে? আজ? কতক্ষণ আগে?

সাংবাদিক: আজই। তিনজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রজ্ঞাকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ধ্রুব রাঠী : এগুলো দেখলেই পরিস্থিতি বোঝা যায়। দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। এখানে সেটিও ঘোষণা করা হচ্ছে না। দেশে একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে।”

সাংবাদিক: বিজেপি নেতারা অভিযোগ করছেন, আপনি বিদেশি শক্তির নির্দেশে কাজ করছেন। তাঁরা বলছেন, আপনার মতো মানুষ দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন। আপনার বক্তব্য কী?

ধ্রুব রাঠী :কোন বিদেশি শক্তির কথা বলা হচ্ছে? দয়া করে বলুন। ইলন মাস্ক? কাকতালীয়ভাবে তিনি সম্প্রতি আম্বানিকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই আমি এসব মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। ইলন মাস্কও আদানির মতো একজন অলিগার্ক বা বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ভারতে আদানি যা করছেন, আমেরিকায় ইলন মাস্কও সেই ধরনের কাজ করছেন। আমি এই সব অলিগার্কের বিরোধিতা করি।

তাহলে জর্জ সোরোস? জর্জ সোরোসের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। অতীতেও তিনি এমন কিছু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেগুলোর সঙ্গে আমি একমত নই। এরপর তারা বলে, আমি আমেরিকার অর্থায়নে চলি। আমেরিকা আমাকে কেন অর্থায়ন করবে? নরেন্দ্র মোদি তো ইতিমধ্যে আমেরিকা যা চায়, তা করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদির ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছেন। মোদিও আমেরিকার দাবি অনুসরণ করেন।

ইউপিআইয়ের বিষয়টি দেখুন। আমার মতে, সরকার এমনভাবে সামান্য চার্জ চালু করেছে, যাতে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো আমেরিকান কোম্পানি লাভবান হতে পারে। আখের বিষয়টি দেখুন। ই২০ পেট্রলের বিষয়টিও দেখুন। এসব নীতির সঙ্গে আমেরিকার স্বার্থ জড়িত রয়েছে। ট্রাম্প ভারতের ওপর আখ আমদানি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং মোদি সরকারকে সেই অনুযায়ী নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার কথা অনুযায়ী কাজ করেন।

আর চীনের কথা কী? আমি আগেই চীনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নরেন্দ্র মোদি নিজে কি চীনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন? আমার তা মনে হয় না। সালমান খানের একটি চলচ্চিত্রে চীনের সমালোচনা করা হয়েছিল বলে খবর ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার চলচ্চিত্রটি আগের অবস্থায় মুক্তি দেওয়ার সাহস পায়নি। চলচ্চিত্রটি আবার শুটিং করা হয় এবং চীনের প্রতি আরও অনুকূলভাবে উপস্থাপনের জন্য পরিবর্তন আনা হয়।

তারা চীনকে ভয় পায়, আমেরিকাকে ভয় পায়, ইলন মাস্ককে ভয় পায়। আর আমি সবার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছি।

আমি একজন স্বাধীন ব্যক্তি। ইউটিউবে আমি প্রকাশ্যে বলি, কোন বিষয়ে আমি বিশ্বাস করি এবং কী ধরনের মতাদর্শ অনুসরণ করি। কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।

আমি নিজের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার মতো যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করি। নিজের অর্থেই আমি আমার বিশ্বাস ও আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পারি।

সাংবাদিক: আপনার কি মনে হয়, সরকার আন্দোলনটিকে পুরোপুরি দমন করে ফেলেছে?

ধ্রুব রাঠী : আন্দোলন দমন করা হয়েছে কোথায়? আমার মনে হয়, সরকারের কর্মকাণ্ডের উল্টো প্রভাব পড়বে। সরকার যত বেশি মানুষকে দমন করার চেষ্টা করবে, তত বেশি মানুষ প্রতিবাদ করার জন্য সামনে আসবে। মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা দমন করা হচ্ছে। এর প্রভাব হয়তো এখনই দেখা যাবে না, কিন্তু মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমাগত জমা হচ্ছে।

আগের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনটি কীভাবে হঠাৎ এত বড় হয়ে উঠেছিল, তা দেখুন। কোনো কারণ ছাড়াই তো একটি আন্দোলন হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে না। এর পেছনে কারণ ছিল। বছরের পর বছর মানুষকে দমন করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে হতাশা জমেছে। একসময় এমন একটি পর্যায় এসেছে, যখন সেই ক্ষোভ বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

এখানেও একই ঘটনা ঘটছে। হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব দেখা যাবে না। কিন্তু মানুষকে যত বেশি দমন করা হবে, তাদের মধ্যে তত বেশি হতাশা ও ক্ষোভ জমা হবে। একদিন সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসবে।

সাংবাদিক: প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কি আপনার সাক্ষাৎ হয়েছে? আপনার মামলা নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে?

ধ্রুব রাঠী : মূলত আমার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেই আমি এসেছিলাম। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তবে আরেকটি কারণ ছিল। তিনি ভোট চুরির বিষয়টি ভালোভাবে বোঝেন। তাই আমি জানতে চেয়েছিলাম, এ বিষয়ে তাঁর মতামত কী। আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিষয়টি আসলে কতটা গুরুতর এবং কত দিন ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হয়। আমাদের আলোচনা মূলত এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই হয়েছে।”

সাংবাদিক: জন্তর মন্তরে সিজেপির প্রথম প্রতিবাদটি বেশ সফল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বার পুলিশ অনেক বেশি সতর্ক ছিল এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আপনার কি মনে হয়,

ধ্রুব রাঠী : আমি আগেই বলেছিলাম, দিল্লিকে পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হোক। কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু কত দিন এভাবে চলবে? এক দিন, এক সপ্তাহ, নাকি এক মাস? এভাবে মানুষকে অনির্দিষ্টকাল দমন করে রাখা সম্ভব নয়।

সাংবাদিক: কেউ কেউ বলছেন, ভারতকে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ধ্রুব রাঠী : যদি কেউ ভারতকে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করে থাকে, তাহলে আমার মনে হয়, বিজেপির নিজেদের লোকেরাই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যাতে মানুষ সহিংস হয়ে উঠতে পারে। আমি সম্পূর্ণভাবে অহিংসায় বিশ্বাস করি। আমি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে বিশ্বাস করি এবং নাথুরাম গডসের চিন্তাধারার সম্পূর্ণ বিরোধী।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের অনেকেই প্রকাশ্যে গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অনেক সমর্থককে গান্ধীর প্রতি অসম্মান দেখাতে এবং গডসের প্রশংসা করতে দেখা যায়।

আমার মতে, যারা সহিংসতার পক্ষে, তারা অন্য পক্ষের মানুষ। আমরা অহিংসায় বিশ্বাস করি। দেশের জন্য গঠনমূলক সমাধান কেবল অহিংস পথেই আসতে পারে। ধরা যাক, সহিংসতার কারণে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেন। তাতেও সমস্যার সমাধান হবে না। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশনারকে এমন একটি প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে, যা তাঁর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে।

সাংবাদিক: পরবর্তী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব

ধ্রুব রাঠী : পরবর্তী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য আমার একটি খুব সহজ প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী—এই দুজনের প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দমতো একজন করে মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচন করবেন। এরপর তাঁদের মনোনীত দুজন ব্যক্তি এমন একজনকে নির্বাচন করবেন, যাঁর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষ হবেন। কারণ, তাঁকে শুধু একটি পক্ষ নিয়োগ দেবে না। এটি খুবই সহজ একটি সমাধান। আমি এখানে সেই প্রস্তাবই তুলে ধরছি।

আমাদের উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। আমি শুধু চাই, সরকার এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করুক। আজ যদি আন্দোলন শেষ হয়ে যায়, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করেন এবং সরকার এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে, তাহলে আমি জনগণকে বলব, আর প্রতিবাদ করার প্রয়োজন নেই। তখন আমার বিশ্বাস হবে, পরবর্তী নির্বাচন কমিশনার সঠিকভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করবেন এবং স্বচ্ছভাবে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।

সাংবাদিক: আপনি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। কিন্তু অনেকে বলছেন, আইনি বিধান পরিবর্তিত হয়েছে এবং তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি এত সহজ নয়। আপনি কী বলবেন?

ধ্রুব রাঠী : তিনি পদত্যাগ করতে পারবেন না কেন? তিনি নিজে পদত্যাগ করতে চাইলে তা করতে পারেন। নিয়োগ কমিটি, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা—এসব নিয়ে যে প্রযুক্তিগত যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, আমার মতে, সেগুলো মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। জনগণের পক্ষ থেকে চাপ তৈরি হচ্ছে। নৈতিক কারণে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আগের সরকারগুলোর সময়ও গুরুতর অভিযোগ উঠলে মন্ত্রীরা নৈতিক কারণে পদত্যাগ করেছেন।

ইউপিএ সরকারের সময় এবং অটলবিহারি বাজপেয়ির সরকারের সময়ও গুরুতর অভিযোগ উঠলে কোনো কোনো মন্ত্রী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগ করতেন। জ্ঞানেশ কুমারেরও সেটি করা উচিত। তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, তার মাধ্যমে তাঁর মনোভাব বোঝা যাবে। এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তিনি পদত্যাগ না করায় তাঁর জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

সাংবাদিক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গুজরাটে কংগ্রেস প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় ছিল। তখন তো ভোট চুরির অভিযোগ ওঠেনি। এই যুক্তির বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ধ্রুব রাঠী : কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জিতেছে নাকি হেরেছে, তা দিয়ে ভোট চুরি হয়েছে কি না, সেটি নির্ধারণ করা যায় না। প্রমাণ যাচাই করতে হবে—কতজন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, কতজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না। আমি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছি। এখন পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ—কেউই সেগুলোর উত্তর দিতে পারেননি। আমি তাঁদের যেকোনো একজনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে দেখান।

আসুন, পশ্চিমবঙ্গের একটি উদাহরণ নিয়েই আলোচনা করি। যদিও লাখ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, আমি মাত্র ৭০ হাজার নামের কথা বলছি। প্রায় ৭০ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে নির্বাচনের সময় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁদের নাম আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

এটা কেমন গণতন্ত্র? মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, অথচ সেই অধিকার প্রয়োগ করার সময় তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এত মানুষের ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে মামলা যখন বিচারাধীন ছিল, তখন কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হলো?

ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকা উচিত কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো? এখন যখন মামলাগুলোর পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তখন জানা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে যে ৯১ শতাংশ নামই সঠিক ছিল। তাঁরা প্রকৃত ভোটার ছিলেন। তাঁদের নাম এখন আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব? কর্তৃপক্ষ যদি পরে স্বীকারও করে যে ফর্ম ৬-এ ভুল হয়েছিল, তাতেও সমস্যার সমাধান হয় না। কারণ, ততক্ষণে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়ে গেছে। তাহলে কি নির্বাচন আবার অনুষ্ঠিত হবে? এমন তো হতে পারে না যে আমি জালিয়াতি করে নির্বাচনে জিতলাম, তারপর বললাম, ‘দুঃখিত, ভুল হয়ে গেছে। পরেরবার আরও সতর্ক থাকব। এভাবে একটি দেশ পরিচালনা করা যায় না।

আমি নরেন্দ্র মোদি, জ্ঞানেশ কুমার ও অমিত শাহকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।”

 

 

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle