দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অক্টোবরজুড়ে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার ওপর বাড়তি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মাসের প্রথমার্ধেই বিদায় নিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রঝড়ের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। মাসজুড়ে তিন থেকে চার দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে পুরো অক্টোবরজুড়ে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর ও নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম সক্রিয় সময়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত মৌসুমি বায়ুর আগে ও পরে সক্রিয় থাকে। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরুর সময়েও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা থাকে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও অক্টোবরকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৮৯১ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বড় একটি অংশ ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে যায়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উপকূলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
তবে লঘুচাপ সৃষ্টি হলেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এমন নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, ওপরের স্তরের বাতাসের গতি ও দিকসহ বিভিন্ন আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর একটি লঘুচাপের শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করে। বঙ্গোপসাগরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির স্থান ও শক্তির ওপর বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে সরে যাওয়ার পরও দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। নদনদীর পানি সাধারণত স্বাভাবিক প্রবাহে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীতে সাময়িকভাবে পানি বাড়তে পারে।
এদিকে চলতি মাসে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা জানিয়েছে বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো। অক্টোবরেও সংক্রমণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বঙ্গোপসাগরে নতুন কোনো লঘুচাপ তৈরি হলে সেটির অবস্থান, গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। কারণ প্রাথমিক দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কোনো নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নিশ্চিত ঘোষণা নয়। বাস্তব পরিস্থিতি জানতে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আবহাওয়া সতর্কতা ও পূর্বাভাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
