লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চীন সফরে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পাবে

প্রকাশিত: 20 জুন 2026

11 Views

The Civilians News

কূটনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত সহযোগিতায় থাকতে পারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফরে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। সরকার ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নতুন সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের চীন সফরটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন-এ অংশ নেবেন এবং একটি বিনিয়োগ ফোরামেও বক্তব্য রাখবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, গণমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনটি চুক্তি এবং ১০টির বেশি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব
কূটনৈতিক মহলের মতে, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন কাঠামো গঠন। দীর্ঘদিন পর দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিবৃতির পরিবর্তে যৌথ ইশতেহার ঘোষণার সম্ভাবনার কথাও আলোচনা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ
সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। বাংলাদেশ সরকার চীনের কাছ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানি, রেল যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহায়তা এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিস্তা প্রকল্প আলোচনায়
বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। যদিও সফরেই অর্থায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

সামরিক সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থাকলেও এবারের সফরে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রকাশ্যে বড় আলোচ্যসূচি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে এই সফর হচ্ছে যখন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে চীনসহ প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কিছু অমীমাংসিত ইস্যুও আলোচনায় রয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman