দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী ও ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির মামলায় ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর টিউলিপ সিদ্দিক স্কাই নিউজকে বলেন, “শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ এবং প্রহসনমূলক ছিল। এই ক্যাঙ্গারু আদালতের ফলাফল যতটা অনুমানযোগ্য, ঠিক ততটাই অযৌক্তিক। আমি আশা করি এই তথাকথিত রায়কে অবমাননার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, যা এটির প্রাপ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনোযোগ সবসময় হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের ওপর ছিল। আমি বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতির দ্বারা বিভ্রান্ত হতে রাজি নই।”
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ:
- শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের জন্য অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্রাইম লোকেশনের প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।
- টিউলিপের মা শেখ রেহানা ও ভাই-বোনদের জন্যও প্লট বরাদ্দ হয়েছে।
- এতে রাজউক ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাইল প্রক্রিয়া করেছেন।
- রাষ্ট্রের ক্ষতি, কয়েক কোটি টাকা।
মামলায় আরও ১৬ জন আসামি, যাদের মধ্যে শেখ হাসিনা (৫ বছর কারাদণ্ড), শেখ রেহানা (৭ বছর কারাদণ্ড)। সকলে পলাতক, রায় তাদের অনুপস্থিতিতে ঘোষিত হয়েছে।
ব্রিটিশ আইনজীবীদের এক দল (যার মধ্যে সাবেক কনজারভেটিভ জাস্টিস সেক্রেটারি) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে বলেছে, টিউলিপের বিচার “অন্যায়, কৃত্রিম এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা”। তারা বলেছেন, টিউলিপকে অভিযোগের বিবরণ জানানো হয়নি এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এই রায় শেখ হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার অংশ। গত সপ্তাহে অন্যান্য দুর্নীতি মামলায় হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং একটিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
