লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রূপপুরের ইউরেনিয়াম যাচ্ছে কড়া নিরাপত্তায়, সামনে আরও ৯ চালান

প্রকাশিত: 03 অক্টোবর 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার রাতে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে তিনটি বিশেষ লরিতে করে তা রওনা হয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শিল্পবিষয়ক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী রূপপুরে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি চুল্লির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ২৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট ২০২৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে কমিশনিং কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে। চালান গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ করে শনিবার সকালে সেটি রূপপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সড়কপথে চালানটি নিরাপদে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে।

রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহের এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমের কারণে। এপ্রিল মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ১৬৩টি পারমাণবিক জ্বালানি সমাবেশ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। মে মাসে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর চুল্লিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালুর আগে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব পারমাণবিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছেছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। তখনই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পারমাণবিক স্থাপনার পর্যায়ে প্রবেশ করে। প্রথম ইউনিটের জন্য পরবর্তী পর্যায়ের জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানি এখন ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করার কথা। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী মোট আরও নয়টি চালানে দুই ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশে আসবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি সমাবেশ এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজনের জন্য আরও ৪৮টি সমাবেশ আসার কথা রয়েছে।

এই সরবরাহ কার্যক্রমে সম্প্রতি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত একটি চালান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তান বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বলে ব্যাখ্যা করেছিল। পরে বিকল্প ব্যবস্থা করে নতুন করে জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। বিশ্ব পারমাণবিক সংস্থার হিসাবে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গেও বাংলাদেশের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।

রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে কঠোর নিরাপত্তার কারণও স্পষ্ট। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রূপপুরের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, চুল্লিতে স্থাপন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপই নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman