দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির কাঠামোই বদলে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সী জানিয়েছে, তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগায় বিশ্ববাজারে মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’, অর্থাৎ অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা বাধ্য হয়ে তাদের খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের অন্যান্য খাতে খরচ কমছে, বিলাসী পণ্য কেনা স্থগিত হচ্ছে, এমনকি বাড়ি বা গাড়ির মতো বড় বিনিয়োগও থমকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ছাঁটাই ও উৎপাদন কমার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা তেল সরবরাহের পাশাপাশি সার ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন একদিকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি কঠিন হয়ে উঠছে। অনেকের জন্য ব্যয় সংকোচনই এখন ‘নতুন স্বাভাবিকতা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
