দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চারদিকে ইট-পাথরের দালানকোঠা। সড়কে সারি সারি যানবাহন। ব্যস্ত নগরজীবনে যেখানে এক চিলতে সবুজের দেখা পাওয়াও কঠিন সেখানে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পেপসি রোডের সড়ক বিভাজক যেন হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক সবজি বাগান।
সড়ক বিভাজকের অল্প জায়গাজুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শাকসবজি। পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া, ডাঁটা শাক, কচু, কাঁচামরিচ, ঢ্যাঁড়স, পালংশাক, লালশাক ও মাশকলাইসহ বিভিন্ন সবজি সেখানে চাষ করা হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে এমন চাষাবাদ পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় কয়েকজন রিকশা গ্যারেজের মালিক, চা দোকানি ও নিরাপত্তাকর্মী মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। সড়কের পাশে থাকা খালি জায়গা ও বিভাজকের জমি কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনের পাশাপাশি নগরের মধ্যে সবুজ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
নগরীর অধিকাংশ খোলা জায়গা যখন নির্মাণকাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় হারিয়ে যাচ্ছে বা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে তখন ছোট পরিসরে এই সবজি চাষ ভিন্ন একটি বার্তা দিচ্ছে। সামান্য জায়গা থাকলেও সেখানে পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

সড়ক বিভাজকের মাটিতে বেড়ে ওঠা সবজিগুলো শুধু খাদ্যের উৎস নয়, ব্যস্ত নগরের একঘেয়ে কংক্রিটের পরিবেশেও তৈরি করছে সবুজের আবহ। পথের ধারে গাছপালা ও শাকসবজি নগরের তাপমাত্রা ও পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সড়ক বিভাজকে চাষাবাদের ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানো, দৃশ্যমানতা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কৃষির জন্য আলাদা জমি পাওয়া কঠিন। তাই ছাদ, বারান্দা, খালি জমি কিংবা অনুমোদিত নগর কৃষির জায়গাকে কাজে লাগানোর প্রবণতা ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে। তেজগাঁওয়ের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনারই ছোট একটি উদাহরণ।
সড়কের মাঝখানে বেড়ে ওঠা পুঁইশাকের লতা কিংবা মাটির ওপর ছড়িয়ে থাকা লাল শাক বা পেঁপে গাছ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, কংক্রিটের শহরেও সবুজের জন্য জায়গা তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগ, যত্ন এবং সেই জায়গাটিকে যথাযথভাবে ব্যবহারের মানসিকতা।
