দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ গত ৫৪ বছরে ধারাবাহিক জুলুম ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আলেম ওলামা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র শিক্ষক সাংবাদিক শ্রমিক কৃষক এমনকি কামার কুমার তাঁতি ও জেলেরাও এই জুলুম থেকে রেহাই পায়নি।
শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা শাহজালালের উত্তরসূরি। তিনি অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন মজলুমের পক্ষে। আজও আমরা সেই পথেই আছি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আল্লাহর আইনের কথা বলার কারণে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, সহস্রাধিক কর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা এবং হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
৫ আগস্ট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ওই দিন জাতির জীবনে স্বস্তি এলেও জামায়াত কোনো বিজয় মিছিল করেনি, বরং সেজদায় পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে। কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের অর্থপাচার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাচার করা টাকা জনগণের হক। এই টাকা ফেরত না দিলে ভবিষ্যতে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পেলে লুটেরাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।

সিলেটের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী নির্ভর এই অঞ্চল গ্যাস বিদ্যুৎ সুপেয় পানি নদীভাঙন ও ড্রেনেজ সংকটে জর্জরিত। বৃষ্টি হলেই নগর ডুবে যায়। মাদক অস্ত্র ও সন্ত্রাস সিলেটকে অস্থির করে তুলেছে। এসবের বিরুদ্ধে জামায়াত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ করা হবে, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে এবং নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়া হবে। চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে, জলাশয় দখল বন্ধ হবে এবং সুরমা কুশিয়ারা বাস্তবে প্রাণ ফিরে পাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভা শেষে তিনি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
