লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

স্বামী হত্যার পর দেহাবশেষ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া নারী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: 16 মে 2026

66 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে মরদেহের অংশ লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহে ঘটনা প্রকাশ পায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত আসমা আক্তারের সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। পরে দেশে ফিরে স্বামী স্ত্রী শরীয়তপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

চলতি মাসের ১২ মে রাতে পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির সময় আসমা আক্তার স্বামীর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়া সরদারের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

এরপর মরদেহ গোপন করতে তিনি ছুরি দিয়ে দেহটি টুকরো করেন এবং আলাদা অংশ ড্রামে সংরক্ষণ করেন। তিন দিন পর মরদেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। কিছু অংশ নদীর তীরে এবং একটি অংশ নির্জন এলাকায় ফেলে রাখার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে মরদেহের কিছু অংশ নিয়ে তিনি শহরের একটি বাসায় ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়রা সন্দেহ করে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ জানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসমা আক্তার হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের আরও অংশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য অন্যান্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ও পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদনে বিবিসি এবং আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা যায় এমন জটিল পারিবারিক সহিংসতা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও সম্পর্কের অবনতির কারণে ঘটে থাকে। তবে প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত অপরিহার্য।

বিশ্লেষকরা মনে করেন পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত আইনগত হস্তক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman